অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ফরিদপুরে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে জাল জন্মসনদ তৈরি করে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রথমে নিয়োগটি স্থগিত করা হয় এবং পরে শিক্ষাবোর্ড থেকে তা বাতিল করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে আবরার ফাইয়াজকে (১৫) অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেন। এ জন্য ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে দেখানো হয়। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিজের বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলের জন্য ভুয়া জন্মসনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। পরে ওই নিয়োগকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চালানো হয়।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগটি স্থগিত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নিয়োগটি বাতিল করে।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আবরার ফাইয়াজের জন্ম ২০১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। একই তথ্য পাওয়া গেছে পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নপত্রেও। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ১৫ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াজেদ মোল্যা এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান।
ফরিদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগটি স্থগিত করা হয়েছে। পরে শিক্ষা বোর্ড তা স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জহির হোসেন/এএমকে