ছাত্রী হোস্টেলের বাথরুমে কনডম, বিক্ষোভের পর দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের বাথরুমে কনডম পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বুধবার দুপুরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক ঘুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষে রেখেই তালা দেন। পরে তালা খুলে দেওয়া হলেও দরজার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর একটি দল সাময়িকভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না। ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সেনা সদস্যরা কিছু কনডমের প্যাকেট পান বলে কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ছাত্রী হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অব্যাহতির দাবিও তোলেন।
পরে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপস শীল কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ছাত্রী হোস্টেলের সুপার মুজিবুর রহমান এবং ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হবে।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর ঢাকা পোস্টকে জানান, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর গতকাল বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসেছিলেন। তিনি শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। দুইজন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাদের দাবি- শুধু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নয়, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তামিম রায়হান/আরএআর