রং মিশ্রিত সেমাই রাস্তায় গুঁড়িয়ে ধ্বংস, আড়াই লাখ জরিমানা

গাইবান্ধা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকায় ভেজাল ও অনুমোদনবিহীন সেমাই উৎপাদনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে দুই কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ সেমাই জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ভেজাল সেমাইগুলো সড়কে ফেলে সরকারি গাড়ি দিয়ে মাড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বিরুদ্ধে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) সাব্বির আহমেদের নেতৃত্বে র্যাব ও ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে বিসমিল্লাহ লাচ্ছা সেমাই কারখানা থেকে প্রায় ২ হাজার কেজি রংমিশ্রিত ও অনুমোদনবিহীন প্যাকেটজাত সেমাই (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা), ১০০ কেজি খোলা সেমাই এবং ৩ কেজি কৃত্রিম ফ্লেভার ও রং জব্দ করা হয়। এ অপরাধে কারখানার পরিচালক সুজন মিয়াকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়; অনাদায়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নুরানী ফুড কারখানা থেকেও রংমিশ্রিত প্রায় ৭০ কেজি সেমাই উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রুবেল মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে র্যাব-১৩–এর ডিএডি জিহাদ হাসান, এসএসআই রায়হান, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মিলন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে জব্দকৃত ভেজাল সেমাইগুলো সড়কে ফেলে সরকারি গাড়ি দিয়ে মাড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়, যাতে তা আর কোনোভাবে বাজারে ফিরতে না পারে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) সাব্বির আহমেদ বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে।
/এসএইচএ