‘বাড়ি বাড়ি কাজ করে জমানো টাকা ঘরে রেখেছিলাম, আগুন সব কেড়ে নিল’

বরগুনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মজিতন বেগম নামে এক হতদরিদ্র বিধবা নারীর বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে। ভাঙাচোরা একমাত্র ঘরটি হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। তবে এ অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানা যায়নি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার কেওরাবুনীয়া ইউনিয়নের কদমতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কদমতলার ওই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন মজিতন বেগম। বিভিন্ন মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। পরবর্তীতে ঢাকায় মেয়েকে বিয়ে দিলে তিনি একাই ওই ঘরে বসবাস করতেন। শনিবার রাতে তার ওই বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় মজিতন বাড়িতে না থাকায় স্থানীয়রা তার বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন। তবে ভাঙাচোরা কাঠের ছোট ঘর হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ঘরটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
কদমতলা এলাকার সোহেল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নামাজ শেষ করে আমরা বাজারে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ শুনতে পাই আগুন লেগেছে। পরে ছুটে এসে দেখি মজিতন বেগমের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। পরে এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মজিতন খুবই অসহায় একজন মানুষ। যখন আগুন লেগেছে তখন তিনি কাজের উদ্দেশ্যে শহরের একটি বাড়িতে ছিলেন।
পিয়ারা খাতুন নামে একই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, মজিতন একাই এ ঘরে বসবাস করতো। তিনি শহরের বিভিন্ন বাসায় কাজকর্ম করায় তার নিজের ঘরে কোনো রান্নাও করতেন না। এ কারণেই আমাদের ধারণা ঘরে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমেই হয়তো এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী মজিতন বেগম বলেন, আমি বরগুনা শহরের একটি বাড়িতে কাজের করতে গেছিলাম। গত বুধবার থেকেই আমি ওই বাড়িতে ছিলাম। পরে খবর শুনতে পাই আমার বাড়িতে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি কিছুই নাই, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খেয়ে না খেয়ে বাড়ি বাড়ি কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে ঘরে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন সব শেষ।
বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। তবে ঘরটি ছোট হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাই আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পেড়েছেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ হয়েছে তা নিশ্চিত হয়েছেন।
আব্দুল আলীম/আরকে