‘সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিরোধী দলের প্রার্থীদের হারানো হলেও দেশের স্বার্থে সহিংসতা এড়িয়ে ফলাফল মেনে নেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি বলে অভিযোগ করেন এবং জুলাই সনদ এর ভিত্তিতে সংস্কার ও অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনী ব্যবস্থার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে খুলনার শিরোমণি খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় ময়দানে থানা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলে আমরা যারা আছি, অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে হারানো হলেও দেশের স্বার্থে সহিংসতা, উত্তেজনা ও বিভাজন এড়াতে কষ্টের সঙ্গে ফলাফল মেনে নিয়েছি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে সরকার গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ভিন্ন পথে হাঁটছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন ঘোষণা না করে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এবং সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ থেকে সরে এসে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।
নিজ নির্বাচনী এলাকার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘোষিত ফল অনুযায়ী সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি পিছিয়ে থাকলেও ৬ হাজার ৫০০ ব্যালট বাতিল করা হয়েছে, যার বড় অংশই তার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ছিল বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে ভাঁজ করার সময় কালি লেগে যাওয়া বা আঙুলের টিপের কালি ছড়িয়ে পড়াকে অজুহাত করে ভোট বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার জয়ের জন্য ১৪০০ ভোটই যথেষ্ট ছিল। বাতিল ব্যালটগুলো পুনরায় যাচাই করা হলে প্রকৃত ফল ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালে রিট দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের রাতে তার কণ্ঠ নকল করে একটি ভুয়া অডিও প্রচার করা হয়, যাতে সংখ্যালঘু ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগের রাতে অর্থ বিতরণেরও অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার দাবি, আমরা মিথ্যার কাছে পরাজিত হইনি, বরং নৈতিকতার জায়গায় বিজয়ী হয়েছি। ফলাফল ঘোষণার সময় উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে এক সমাবেশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন। কালো টাকা ও ভয়ভীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলাফলে কাউকে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা পরাজিত হননি; প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে ফল ভিন্ন হয়েছে।
মাহে রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায় রমজানের মর্যাদা অনন্য। রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন এবং আত্মসংযমের শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ না রেখে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার কথাও বলেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা করে জুলাই সনদের একমত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করুন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে চলুন। সহিংসতা বন্ধ ও বিরোধীদের প্রতি সহনশীল আচরণেরও আহ্বান জানান তিনি। উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।
খানজান আলী থানা আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও এ টি এম গাউসুল আযম হাদি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মোস্তফা আল মুজাহিদ, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, গাজী মোর্শেদ মামুন, অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, মাওলানা আবুল বাশার, মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আব্দুস সহীদ, ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজাউল হক, শেখ বাসির হোসেন, হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফা, মোশাররফ হোসেন, মাওলানা এমদাদুল্লাহ মাসরুর, মুহা. আমির হামজাহ, মিয়া আবুল কালাম মহিউদ্দিন, আল ইমরান, সৈয়দ তারিক হাসান, শেখ গোলাম কিবরিয়া মিন্টু, অধ্যক্ষ মারুফুল কবির, সৈয়দ জাকির হোসেন, সরদার শামছুর রহমান, হোসেন, আব্দুল খালেক, গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।
মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ