ইফতারের সময় অজু করতেই হবে?

সারাদিন রোজা শেষে সূর্যাস্তের সময় ইফতারের মাধ্যমে রোজা ভাঙেন মুসলিমরা। ইফতার অত্যন্ত বরকতময় খাবার। ইফতারের মুহূর্তকে ঈমানদারের জন্য আনন্দের মুহূর্ত বলা হয়েছে হাদিসে। এ সময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন।
ইফতারের সময় প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন রাত সেখান (সূর্য বের হওয়ার স্থান) থেকে চলে আসে এবং দিন (সূর্য অস্ত যাওয়ার স্থান) থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায় তখন রোজাদার রোজা খুলে ফেলবে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯৫৪)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ। একটি আনন্দ হচ্ছে যখন সে ইফতার করে। আরেকটি হচ্ছে যখন সে প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬৬)
ইফতার স্বাভাবিক খাবারের মতো। তবে যেহেতু সারাদিন রোজা রেখে এর মাধ্যমে রোজা ভাঙা হয়, তাই এই খাবার বিশেষ বরকতময়। ইফতারের জন্য অজু করা বা ইফতার খাওয়ার সময় অজু করে বসা জরুরি নয়। তবে যেহেতু ইফতারের পরই মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়, তাই আগে থেকে অজু করে বসা উত্তম। এতে করে ইফতারের পর মাগরিব আদায় করতে সুবিধা হয়।
এছাড়াও সবসময় অজু অবস্থায় থাকা উত্তম, এর ফজিলত রয়েছে। সবসময় অজু অবস্থায় থাকা হজরত বেলাল (রা.)-এর বিশেষ আমল ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে ভ্রমণের সময় বেলাল (রা.)-এর জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বেলালকে (রা.) বললেন, তোমার সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে আমাকে বলো, আমি জান্নাতে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। বেলাল (রা.) বললেন, আমার সর্বোত্তম আমল হলো, আমি রাতে ও দিনে অজু অবস্থায় থাকি। আর যখনই অজু করি তখনই সাধ্যমতো নামাজ আদায় করি।’ (কানজুল উম্মাল : ৩৫৪৫৪)
এনটি