মাগুরায় রমজান ঘিরে জমে উঠেছে কুলের বাজার

চলছে পবিত্র রমজান মাস। সারা দিনের রোজা শেষে ইফতারের সময় শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেই ইফতারের থালায় প্রিয় ফল হিসেবে স্থান পেয়েছে বাহারি রঙের দেশি ফল কুল। সুলভ মূল্য ও টক-মিষ্টি স্বাদের কারণে মাগুরা জেলাজুড়ে কুলের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদর, শ্রীপুর এবং শালিখা আড়পাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ফুটপাতের টং দোকান ও ফলের আড়তগুলোতে লাল, সবুজ ও হলুদাভ নানা জাতের কুলে ভরে উঠেছে। ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ দরদাম করে কিনছেন, আবার অনেকে ছোট পলিথিনে করে কুল নিয়ে ফিরছেন বাড়িতে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কুল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। যা আপেল, আঙ্গুর কিংবা কমলালেবুর মতো আমদানিকৃত ফলের তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইফতারের থালায় আপেলের বিকল্প হিসেবে কুলকেই বেছে নিচ্ছেন। অনেকের ভাষায়, ‘ঘোল দিয়ে দইয়ের স্বাদ মেটানোর মতো হলেও কুলের স্বাদে তেমন ঘাটতি নেই।’
শালিখা আড়পাড়া বাজারের ফল বিক্রেতা জহুর, রুমান ও আলামিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রমজান এলেই কুলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় ইফতারের জন্য মানুষ বেশি করে কুল কিনছেন।
আরেক ফল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, সারা দিনে প্রায় দুই মণ কুল বিক্রি করেছি। রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে কুলের বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। কুলের পাশাপাশি দেশি পেয়ারা বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
কুল কিনতে আসা ক্রেতা জসিম উদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, আপেল, আঙ্গুর আর কমলালেবুর দাম এখন অনেক বেশি। সে তুলনায় দেশি ফল কুল ও পেয়ারা অনেক ভালো। এগুলো যেমন পুষ্টিকর, তেমনি দামও হাতের নাগালে।
ইফতারের থালায় ফল রাখা সুন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ এখন সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর ফলের দিকেই ঝুঁকছেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, কুলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোজার সময় শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক। তাই কম দামে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল ইফতারের জন্য একটি উত্তম বিকল্প।
এদিকে মৌসুমি ফল হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছেও কুল বিক্রি এখন লাভজনক হয়ে উঠেছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় খুচরা বাজারেও দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ইফতারের থালা সাজাতে কুল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের ভরসার ফল। সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় রমজানজুড়ে কুলের এই জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাছিন জামান/এসএইচএ