বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় মা-বাবাদের সঙ্গে ইউএনওর ইফতার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় বাবা-মায়েদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া।
কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তিনি হঠাৎ বৃদ্ধাশ্রমে হাজির হন ইফতারসামগ্রী নিয়ে। এরপর বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মা-বাবাদের সঙ্গে বসে ইফতার করেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন।
বুধবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমে ইফতার বিতরণ করেন তিনি। তাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আশ্রমের বাসিন্দারা।
ইফতার পেয়ে বৃদ্ধ হাসান আলী বলেন, আমরা বৃদ্ধাশ্রমে দীর্ঘদিন ধরে আছি। এখানে খুব ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ হয় না। আজকে ইফতার নিয়ে এসেছে, এতে আমরা খুব আনন্দিত।
মোকলেছুর রহমান বলেন, পরিবার আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে। এখানে কষ্টে দিন কাটে। আমাদের তেমন কেউ খোঁজখবর নেয় না। আজকে ভালো ইফতার পেয়েছি।
বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি পরিবার থেকে একজন নিপিড়ীত মানুষ, বৃদ্ধাশ্রমে ৫ মাস ধরে আছি। ইতিপূর্বে পরিবার থেকে কেউ খোঁজখবর নেয়নি। আজকে মমতা মা আমাদের ভালো ইফতার দিয়েছেন। আল্লাহ যেন তার ভালো করেন।
নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা সাজিউর রহমান সাজু বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলেছি। আমার জায়গা থেকে আমি তাদের ভালো রাখার চেষ্টা করছি। এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অসহায় ছিন্নমূল মানুষেরা এখানে এসে থাকেন। আজকে ইউএনও মহোদয় এসে সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন, এটা আমাদের জন্য সাহায্যের।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, আমি এর আগেও বৃদ্ধাশ্রমে এসেছিলাম, অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজকে তাদের সঙ্গে ইফতার করার জন্য ইফতার নিয়ে এখানে এসেছি। আমি সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। তবে সব সন্তানের উচিত কোনো বাবা-মায়েদের যেন বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠায়।
চাকরি করার সুবাদে আমার বাবা-মা আমার সঙ্গে থাকে না, আজকে তাদের সঙ্গে ইফতার করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানাবো, তারা যেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষদের সহায়তা করে।
এ সময়ে থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এএমকে