চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, সেই ইউএনওর বদলির আদেশ বাতিল

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মাসুদুর রহমানের বদলি আদেশটি বাতিল করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।
বদলির আগের আদেশ বাতিলের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ০৫.০০.০০০০.১৩৯.১৯.০০৯.২৪-১৪ নং প্রজ্ঞাপনমূলে আটজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বদলির আদেশ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন ইউএনওর বদলি আদেশ প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন করেন।
এর আগে বদলির প্রজ্ঞাপনে মোট আটজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের নিম্ন বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে তাদের নামের পাশে বর্ণিত উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
বদলির আদেশ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, বদলি আমাদের একটি রুটিন বিষয়। আমাকে বদলি করা হয়েছিল, আমি সেই অনুযায়ী নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে বদলির আগের আদেশটি বাতিল হওয়ায় আমি আমার বর্তমান কর্মস্থলে আবার কাজে যোগ দিয়েছি। আমরাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমাদের যখন যেখানে বদলি করা হবে, সেখানেই আমরা আমাদের কাজ কর যাব।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় সরকারি জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করছিলেন পারভেজ নামে এক ব্যক্তি। তখন পারভেজ নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর ক্ষিপ্ত হন সাইদুর রহমান। এ সময় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
ওই ঘটনার ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। খন্ডিত ওই ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ‘কী করছেন এটা বলেন না আমাকে। আপনি ম্যাজিস্ট্রেট, আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আপনি ম্যাজিস্ট্রেট, আমি চেয়ারম্যান, এটা আপনি জানেন তো, এটা আমাকে বলতে সমস্যা কোথায়? মোবাইল কোর্ট তো হচ্ছে, স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। ইউএনও সাহেব আমাকে বলেন, আপনি আছেন ঠিক আছে, আমার ইউনিয়ন এটা, আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে বলতে হবে।’
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে চান চেয়ারম্যানের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টা কোন আইনে আছে? তখন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, এটা চেয়ারম্যানের আইনে আছে।
এ ঘটনায় পরদিন (১৮ জানুয়ারি) লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরএআর