কিছু পদক্ষেপ গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে যাচ্ছে, জাতি এসব মনে রাখবে : মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদরা গণঅভ্যুত্থানে সশরীরে অংশ না নিলেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। তবে তাদের কিছু পদক্ষেপ গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে যাচ্ছে। জাতি এসব মনে রাখবে। ছেলে হারানো মায়েরা মনে রাখবে। রাজনৈতিকভাবে এসবের দায় আপনাদের নিতে হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ফেনীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে বিএনপি নেতাদের দায়ী করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার শুরুতেই ভুল করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে এটিকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। অথচ এটিকে আদালতে নেওয়ার কথা ছিল না। এর পেছনে বিএনপি নেতাদের হাত রয়েছে, এটি এখন ওপেন সিক্রেট।
মঞ্জু বলেন, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংস্কার কমিশনের কথা নাকি সংবিধানে নেই। অথচ এ সালাহউদ্দিন ভাই তো দুনিয়াতেই ছিলেন না। বেঁচে ছিলেন কিনা তাও কেউ জানতেন না। আপনাকে গুম করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সীমান্ত পার করে অন্য দেশের সীমান্তে নেওয়া হয়েছিল, এটি কোন সংবিধানের অনুচ্ছেদের বলে (শক্তিতে) করা হয়েছে, সেটি জানতে চাই। কোন অনুচ্ছেদ ও কোন আইনের বলে খালেদা জিয়াকে জেল দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমানকে দেশান্তরিত করা হয়েছে তাও জানতে চাই।
তিনি বলেন, আপনারা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুম হননি, সাংবিধানিকভাবে দেশেও ফিরে আসেননি। সংবিধানবহির্ভূত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনারা দেশে এসেছেন। জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন মানুষের রক্তের স্রোতের বদৌলতে। মানুষের রক্তকে ভুলে যাবেন না। আপনাদের অবদান নেই-এমন নয়, তবে আপনারা দেশে ছিলেন না। শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও মুক্তিযুদ্ধের নেতা হিসেবে তাকে মানা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। তাই বলব, গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করবেন না। অতীতের সরকারের কিছু পদক্ষেপ ভুল হতে পারে, আপনারা অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তবে নতুন এই বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের কারণেই হয়েছে।
সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো জুলুম করতে পারবে না। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো জুলুম করে, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের যে ইচ্ছা, সেটি তৃণমূল পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। তারেক রহমান হেঁটে অফিস করেন, অথচ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা ১০-২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে মানুষের ওপর জুলুম করছে। তৃণমূলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনুরোধ করছি।
মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে ডামি এজেন্ট দিয়ে, নেতাকর্মীদের হেনস্তা করে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে। অতীতের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করতে চাই না বলেই আমি ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা চাই, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক, অপরাধীরা শাস্তি পাক। মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন যেন না হয়।
এ সময় এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্ল্যাহ, সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হকসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তারেক চৌধুরী/এসএইচএ