কবরস্থানের গেট নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে কবরস্থানের গেট ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার মাধবখালী গ্রামের মণ্ডলপাড়া (পশ্চিমপাড়া) ও খানপাড়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী গ্রামের কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে দুই পাড়ার মানুষ ব্যবহার করে আসলেও কবরস্থানের গেট ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এছাড়া কয়েক বছর আগে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে খাঁপাড়ার মসজিদ ছেড়ে পশ্চিমপাড়ায় নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তবে উভয় পক্ষের কবরস্থান একই হওয়ায় কবরস্থানে যাওয়ার পথ ও গেট নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ইফতার ও মাগরিবের নামাজের পর বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের লোকজন। এসময় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- খানপাড়ার আশরাফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ লিখন (২২) ও তার বাবা আশরাফুল ইসলাম, মৃত মাওলা বক্সের ছেলে খান জাহান খান (৪৫)। এছাড়া মণ্ডলপাড়ার হান্নানের স্ত্রী রোজিনা (৩৮), জলিলুর রহমানের স্ত্রী নাজমা (৫২), তৃষ্ণা (৩৩) এবং দুর্জয় (২৪) আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে খান জাহান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
সংঘর্ষে আহত লিখনের দাবি, মণ্ডলপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম এবং আতিয়ারের ছেলে আশিক তাদের ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে আহত রোজিনা অভিযোগ করে বলেন, কবরস্থানের গেট নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে খানপাড়ার আকুল ও ইসরাফিলসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মাধবখালী মণ্ডলপাড়ার বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে মাধবখালী জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় তিন মাস আগে তিনি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আফজালুল হক/আরকে