জ্যামে আটকে পড়া রোজাদারদের মাঝে ইফতার বিতরণ

পবিত্র রমজান মাসে জ্যামে আটকে পড়া রোজাদারদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ. এম. আলী হায়দার নাফিজ ও রায়হান উল ইসলাম।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে কারওয়ান বাজার মোড়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা এই ইফতার বিতরণ করেন। এ সময় তারা পথচারী, বিভিন্ন গাড়িতে থাকা মানুষজন এবং ট্রাফিক পুলিশের মাঝে এই ইফতার বিতরণ করেন।
জানা যায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালগুলোতে ইফতারের আগ মুহূর্তে শত শত যানবাহন আটকে থাকে। প্রটোকলমুক্ত চলাচলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও ঈদের কেনাকাটার চাপে বিকেলের পর থেকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এই পরিস্থিতিতে ইফতারের সময় হয়ে গেলেও রোজাদারদের রাস্তায় গাড়িতেই ইফতার করতে হচ্ছে। তৃণমূলের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ. এম. আলী হায়দার নাফিজ ও রায়হান উল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০ রমজান (মঙ্গলবার) থেকে এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেন। যা পুরো রমজান মাসজুড়ে চলবে।
তাদের বিতরণ করা প্রতিটি ইফতার বক্সে থাকছে– পানি, খেজুর, কমলা, কলা, কেক, টিস্যু এবং উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মেসওয়াক, তসবিহ, আতর, নামাজ-রোজার স্থায়ী ক্যালেন্ডার, কলম ও চকলেট।
ইফতার বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তরুণ ছাত্রনেতা এ. এম. আলী হায়দার নাফিজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পরে ঈদ, সবাই বাড়িতে চলে যাবে। যার জন্য সবাই শপিংমলে আসছেন। ইফতারের আগ মুহূর্তে রাস্তায় জ্যাম লেগে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেরই ইচ্ছা থাকে শপিংমলে গিয়ে ইফতারি করবে, তবে অধিকাংশই তা পারেন না। তাদের জন্যই আমরা এই ইফতারিটা নিয়ে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, আয়োজনটা মূলত ছাত্রদলের পক্ষ থেকে, তবে এটা আমাদের নিজেদের অর্থায়নে করছি।
আরেক ছাত্রনেতা রায়হান উল ইসলাম বলেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে আমিও পড়েছি, আমার বন্ধু নাফিজও পড়েছে। আমরাও এভাবে রাস্তায় জ্যামে ইফতার মিস করেছি। যার কারণে আমরা মনে করি ইফতারের আগ মুহূর্তে বাসের মধ্যে যদি একজন যাত্রী এটা পান, ঈদের ছোটোখাটো একটা খুশি তিনি হবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই ছাত্র। টিউশনির টাকা জমিয়ে, পরিবার থেকে শপিংয়ের জন্য দেওয়া টাকা থেকে কিছু জমিয়ে, ছাত্রদলের বড় ও ছোট ভাই, বন্ধুবান্ধব ও মামার কাছ থেকে কিছু নিয়ে আমরা এই অর্থটা জুগিয়েছি এবং সেটা দিয়ে এই আয়োজনটা করেছি।
এএমকে