কুষ্টিয়ায় পাম্পে তেল সংকট, চালকদের ক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কাঙ্খিত পরিমাণ তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক। এ সংকটকে ইচ্ছাকৃত বলে অভিযোগ করছেন কোনো কোনো গ্রাহক। আবার কেউ বলছেন সরবরাহ কমে যাওয়াই এমন পরিস্থিতির কারণ।
কুষ্টিয়া স্টোরে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, কয়েকদিন ধরেই এই সমস্যার মধ্যে পরেছি। গতকালকেও ২০০ টাকার তেল দিচ্ছিল কিন্তু আজ বলছে ১০০ টাকার বেশি তেল দিতে পারবে না।
বিজ্ঞাপন
তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানান, ডিপোতে তেল না থাকার কারণে তারাও তেল পাচ্ছে না। এই কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তেল বিক্রি সীমিত করায় চালকদের সঙ্গে পাম্পের কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।
রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মজমপুর এলাকার মেসার্স কুষ্টিয়া ষ্টোরে কয়েকশ মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। চালকরা দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে তেল নিতে দেখা যায়। এ সময় অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় বাইক আরোহীদের ১০০ টাকার পেট্রোল দিতে দেখা যায় পাম্প কর্তৃপক্ষকে।
তবে এই পাম্পের উল্টো পাশে মেসার্স এম এ রাজ্জাক এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় তেল বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছে। শহরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
মেসার্স এম এ রাজ্জাক এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মাছুদুল হক বলেন, শনিবার তেল নিতে খুলনা পাঠানো হয়েছে। রোববার সিরিয়ালে তেল দেওয়ার কথা আছে। তেল আসা সাপেক্ষে সোমবার নতুন করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারবো গ্রাহদের কাছে।
তবে অধিকাংশ গ্রাহকরা বলছেন, কুষ্টিয়ায় তেল পাম্প মালিকদের কাছে তেলের যথেষ্ট মজুদ আছে। তারা কৃত্রিম সংকট করে তেল দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে। গ্রাহকদের ভোগান্তি করছে পাম্প মালিকরা।
কুষ্টিয়া জেলা জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই তপো বলেন, জেলার বিভিন্ন পাম্পগুলোতে তেলের মজুদ না থাকায় তারা তেল সরবরাহ করতে পারছে না। তেলের গাড়ি খুলনায় পাঠানো হয়েছে। আজ তেল লোড দেওয়ার কথা আছে। আগামীকাল আমরা গ্রাহক পর্যায়ে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, সোমবার পর্যন্ত ব্যাংক খোলা আছে। আমরা তেল নেওয়ার জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবো সোমবার পর্যন্ত। ঈদ যাত্রা উপলক্ষে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে খুলনার ডিপোর পাশের ব্যাংক যদি খোলা রাখতো তাহলে তেল আমরা ঠিকভাবে উত্তোলন করতে পারতাম।
রবিউল আলম ইভান/এএমকে