গাইবান্ধায় ভিজিএফের চাল না পেয়ে ফের সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল না পাওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন বিক্ষুব্ধ কার্ডধারীরা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের ঠুটিয়াপুকুর এলাকায় ওই ইউনিয়নের ভিজিএফ বঞ্চিতরা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদুল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি স্লিপ থাকা সত্ত্বেও অনেক সুবিধাভোগী তাদের প্রাপ্য চাল পাননি। বরং চাল নিতে গেলে কয়েকজন কার্ডধারী চেয়ারম্যানের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া প্রত্যেক সুবিধাভোগীদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৫ থেকে ৬ কেজি।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য বাবু মিয়া, ভুক্তভোগী শাহিনুর খাতুন ও পারভিন খাতুন। তারা বলেন, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় সড়ক অবরোধের ফলে ওই রুটে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বেলা দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) একই দাবিতে উপজেলার ঢোলভাঙ্গা এলাকায় গাইবান্ধা–পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন স্থানীয়রা। স্লিপ থাকা সত্ত্বেও চাল না দেওয়া, কম পরিমাণ চাল বিতরণ এবং বরাদ্দের চাল বিক্রির অভিযোগ তুলে মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদুল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। তার আগে ইউপি পরিষদে চেয়ারম্যানকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার। তিনি জানান, তার ইউনিয়নে ৫ হাজার ২০০টি স্লিপের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী ৫ হাজার ৯৭৪টি স্লিপের চাল বিতরণ হয়ে যাওয়ায় পরে আর চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাসুম বিল্লাহ/আরকে