পাওনাদারের চাপে আত্মগোপনে ছিলেন তারা, সাজান অপহরণ নাটক

মুক্তিপণের দাবিতে সম্প্রতি যশোরে দুটি অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও দুজনই আত্মগোপনে ছিলেন। এ দুটি ঘটনা সাজানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এমনটাই জানতে পেরেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার।
বিজ্ঞাপন
গত ২ মার্চ রাতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও ১১ মার্চ রাতে গ্রামীণফোন কর্মী আবিদ হোসেন অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, জাহাঙ্গীর আলম নামে যে ব্যবসায়ী অপহরণের শিকার হয়েছিলেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল সেটি ছিল সাজানো। পুলিশ তদন্ত করে দেখেছে জাহাঙ্গীর আলম দেনায় জর্জরিত। পাওনাদারের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তার স্ত্রীও বিষয়টি জানতেন।
আবুল বাশার আরও বলেন, জাহাঙ্গীর আলম অজ্ঞাত স্থানে থেকে স্ত্রীকে বলেন, কিছু টাকা জোগাড় করে রাখতে যাতে অন্তত একজনকে দেওয়া যায়। পরে সুযোগ বুঝে তিনি বাড়িতে ফিরে আসবেন। এই ধরনের কথোপকথনের রেকর্ড পুলিশের হাতে আছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া তাকে চৌগাছার পাশাপোল থেকে উদ্ধার করা হয় সেটাও পূর্বপরিকল্পিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ‘উদ্ধার’ করে আদালতে পাঠায়। আদালতে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আদালত চাইলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
গত ২ মার্চ রাতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম নিখোঁজ হন বলে তার স্ত্রী রেশমা খাতুন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে ৪ মার্চ প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানান, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার স্বামীকে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে। তিনি তার স্বামীকে জীবিত উদ্ধারের দাবি করেন।
এদিকে, গত ১১ মার্চ রাতে যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে গ্রামীণফোন কর্মী আবিদ হোসেন অপহরণের শিকার হয়েছেন মর্মে থানায় জিডি করেন তার স্ত্রী মিনি খাতুন।
বিজ্ঞাপন
জিডিতে বলা হয়, এক লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তার স্বামীকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে। এই ঘটনার দুইদিন পর চাঁদপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা এলাকা থেকে উদ্ধার করেন। পরে জানা যায় তিনিও পাওনাদারের চাপে আত্মগোপনে ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, ওই কর্মীও আত্মগোপনে ছিলেন দেনার দায়ে। পরে তার স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের নাটক সাজান। এই বিষয়ে পুলিশ সরাসরি কিছু করতে না পারলেও মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আদালত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।
রেজওয়ান বাপ্পী/এমএএস