সাবেক সংসদ সদস্য জিএম ফজলুল হক মারা গেছেন

চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিএম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সলিম উল্লা সেলিম। তিনি বলেন, জিএম ফজলুল হক বার্ধক্যজনিত রোগে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
জিএম ফজলুল হক চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের তরপুরচন্ডি গ্রামে ১৯৪৭ সালে ১০ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং দুই মেয়েসহ বহু রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আত্মীয়, বন্ধু রেখে গেছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির কাছে পরাজিত হন। একবার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে তিনি রাজনীতিতে চলে আসেন। জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন।
জিএম ফজলুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সলিম উল্লা সেলিম।
বিজ্ঞাপন
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, জিএম ফজলুল হকের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার ইন্তেকালে দেশ ও জাতি একজন অভিজ্ঞ, নিবেদিতপ্রাণ ও জনবান্ধব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক জীবনে জিএম ফজলুল হক সততা, আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তার কর্মময় জীবন ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, আমিন।
আনোয়ারুল হক/এএমকে