এক পাম্পে ভাঙচুর অন্য পাম্পে জরিমানা, তেল সংকটে অস্থির ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে উত্তেজিত জনতার ভাঙচুরের শিকার হয়েছে একটি ফিলিং স্টেশন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত হানিফ ফিলিং স্টেশন এন্ড সার্ভিসিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাঙচুরে আহত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে হানিফ ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়। তেল সংগ্রহের জন্য স্টেশনজুড়ে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো ও আগে-পরে নেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হঠাৎ করে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দল ফিলিং স্টেশনে হামলা চালায়। তারা স্টেশনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারের কাচ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় পাম্পের অন্তত দুইজন স্টাফ আহত হন। এছাড়াও ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলায় জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে হানিফ ফিলিং স্টেশন এন্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ম্যানেজার আব্দুল হালিম বলেন, তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে গ্রাহকদের নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে হঠাৎ করে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল এসে পাম্পে ভাঙচুর চালায়। এতে আমাদের দুইজন স্টাফ আহত হয়েছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ভাঙচুর করে চলে যায়। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে একই রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বিসিক এলাকায় অবস্থিত সুরমা ফিলিং স্টেশনেও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালায় প্রশাসন। স্টেশনটি তেল ওজনে কম দিচ্ছিল এবং তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের সরবরাহে গড়িমসি করছিল বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ওই ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, শহরের রূপসী বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ না করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের অভিযোগ কয়েকজন সাংবাদিক মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং সেখানে মব সৃষ্টির মাধ্যমে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারসাজি বা ভোক্তাদের হয়রানি বরদাশত করা হবে না। সুরমা ফিলিং স্টেশনে তেল ওজনে কম দেওয়া এবং তেল মজুত রেখেও গ্রাহকদের না দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেললে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গেল দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু পাম্পে তেল দেয়া হলেও রয়েছে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। আবার অনেক পাম্পেই নেই তেল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
রেদওয়ান মিলন/এমটিআই