কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ বুঝে নিতে আসা স্বজনদের আহাজারিতে কেঁপে উঠছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা। হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের সারি। কেউ কেউ চিৎকার করে করে কান্না করছেন। কেউ গড়াগড়ি করছেন ফ্লোরে। এ যেন মৃত্যুপুরীর ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় যশোরের গাড়িচালক পিন্টুর সঙ্গে। একই সঙ্গে দুই মেয়ে এবং স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পিন্টু জানাচ্ছিলেন, স্ত্রী লাইজু আক্তার তার দুই মেয়ে খাদিজা ও মরিয়মকে নিয়ে সন্তানদের নানাবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই তাজা প্রাণগুলো ঝরে গেল।
এ দুর্ঘটনায় নিহত ৯ বছরের সায়েদা। লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজ উদ দোলার মেয়ে। মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর যাচ্ছিলেন সিরাজ। দুর্ঘটনায় মেয়ে সায়েদা মারা যায়। সিরাজ ও তার স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাঁচবে কিনা জানি না বলে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেন সায়েদার লাশ নিতে আসা তার খালা শাহিদা বেগম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে মামুন স্পেশাল নামক যাত্রীবাহী বাসটি। ভোররাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি।
দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়া স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।
এসময় আহত হন আরও অন্তত ২৪ জন। তাদের মধ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ জন। ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের পর তাদের স্বজনদের কাছে খবর পাঠানো হয়। স্বজনরা একে একে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মেডিকেলের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জনকে মৃত অবস্থায় এবং ২৪ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে ৬ জনকে আমরা ভর্তি করেছি। বাকি ১৮ জনকে ঢাকায় পাঠিয়েছি। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে।
আরিফ আজগর/এসএইচএ
