এখনো পর্যটকদের ভিড়ে মুখর রাঙামাটি

রাঙামাটি, যেখানে পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি, নীল আকাশ আর কাপ্তাই হ্রপদের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে গড়ে উঠেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেই সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছরই ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন পার্বত্য এই জেলায়।
বিজ্ঞাপন
এ বছরও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের দিন থেকেই হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।
এদিকে ঈদের দিন থেকেই পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো পর্যটক। পর্যটকদের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই স্থাপনাটি। ঝুলন্ত সেতুর ঘাট থেকে ভোট ভাড়া করে পর্যটকরা ঘুরে দেখছেন শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এছাড়া পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের নতুন সংযোজন সানরাইজ ইকোপার্ক নজর কেড়েছে ভ্রমণকারীদের। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সরেজমিনে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।
এছাড়া আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, পলওয়েল পার্ক, লেকভিউ গার্ডেন, ডিসি বাংলো পার্ক, শিশু পার্ক ও চাংপাংসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে আসামবস্তি- কাপ্তাই (বড়াদম) সড়কটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। সড়কের এক পাশে সবুজ পাহাড়, অন্যপাশে বিস্তীর্ণ কাপ্তাই হ্রদ যা সহজেই যে কারো নজর কাড়ে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া জেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলার ভূস্বর্গ’ খ্যাত সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। পাহাড় ও মেঘের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা সাজেক যেন এক স্বর্গরাজ্য। পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে পুরো সাজেকে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
রাঙামাটি জেলায় ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট, সাজেকে শতাধিক কটেজ ও কাপ্তাইয়ে বেশ কয়েকটি আবাসিক সুবিধা রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এবারের ঈদের টানা ছুটিতে প্রায় ২০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আরিফুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এসে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে এবং এখানে ঘুরে আমার অভিজ্ঞতা খুবই ইতিবাচক। এছাড়া পর্যটন স্পটগুলো বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকদের হয়রানি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ থাকে, কিন্তু এখানে এসে তেমন কিছু দেখিনি। সবকিছুর দাম আমার কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে পাশাপাশি সার্বিকভাবে ব্যবস্থাপনাও বেশ ভালো ছিল।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম থেকে আসা এস এম বেলাল চৌধুরী বলেন, আমি পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। প্রথমেই ঝুলন্ত শুধু দেখতে আসি এবং ঝুলন্ত সেতুতে দাড়িয়ে হ্রদের যে সৌন্দর্য উপভোগ করছি তা সত্যিই অসাধারণ। পাহাড়, হ্রদ ও চারপাশের পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটা অসাধারণ। আমার মনে হয়, যারা এখনো রাঙামাটি আসেননি তাদের অবশ্যই একবার ঘুরে যাওয়া উচিত।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে। ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে এবং এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ঈদের আগেই আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে অধিকাংশ কক্ষপূর্ণ রয়েছে।
কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ঈদের ৭ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হলেও রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন এখনো অব্যাহত রয়েছে। আমরা যে পরিমাণ পর্যটক আশা করেছিলাম বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক এসেছে।
পর্যটন নৌযান ঘাটের টোল আদায়কারী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যটক এসেছে এবারের ঈদের ছুটিতে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টি বোট ভাড়া হচ্ছে এবং পর্যটকরা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য।
সাজেক কটেজ রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণদেব বর্মন বলেন, সাজেকে আমাদের ১১১টি কটেজ ও রিসোর্ট রয়েছে যেগুলো ২৮ মার্চ পর্যন্ত আগাম শতভাগ বুকিং হয়ে গিয়েছে। যে কারণে আমরা আশা করছি এ বছর ভালো মুনাফা করতে পারব।
ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক উইলিয়াম ত্রিপুরা বলেন, প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে পর্যটকদের চাপ থাকে, এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন রেখেছি। পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদেও আমাদের নৌটহল অব্যাহত রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।
আরকে