বিজ্ঞাপন

৪৬ জন পর্যটককে ফেলে মোবাইল-মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়েছে ট্যুর অপারেটর

অ+
অ-
৪৬ জন পর্যটককে ফেলে মোবাইল-মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়েছে ট্যুর অপারেটর

বান্দরবানে ৮৪ জনের একটি পর্যটক দলের ৪৬ জনকে ফেলে ট্যুর অপারেটর তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, টাকাসহ সবকিছু নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ‘ভ্রমণপ্রিয় পর্যটক’ ও ‘ঘুরি বাংলাদেশ’ নামের দুটি ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ঘুরতে আসা একটি পর্যটক দল এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভ্রমণের একপর্যায়ে তাদের থানচির দুর্গম রেমাক্রি এলাকায় ফেলে রেখে দুটি ট্রাভেল গ্রুপ চলে যায়।

এক পর্যটক বলেন, আজকে (শনিবার) সকালে আমাদের ঢাকা পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু আমাদের ট্যুর গ্রুপ গতকাল অর্ধেক পর্যটক নিয়ে রওনা দেয়। আমাদের রেমাক্রী থেকে তিন্দু পর্যন্ত নৌকায় নিয়ে আসার কথা ছিল, কিন্তু তারা নৌকার ব্যবস্থা না করেই আমাদের ফেলে চলে আসে। এরপর আমাদের ৫ ঘণ্টার পথ হেঁটে আসতে হয়। পাহাড়ি এলাকায় ছিনতাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এমন কথা বলে আমাদের কাছ থেকে মোবাইল মানিব্যাগসহ সবকিছু নিয়ে তারা চলে যায়।

পরবর্তীতে বিপাকে পড়া পর্যটকরা স্থানীয় জনসাধারণ ও থানচি উপজেলার ট্যুর গাইডদের সহযোগিতায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় তিন্দু সড়কের মাথায় উপস্থিত হন।

বিজ্ঞাপন

থানচি উপজেলার ট্যুর গাইড জৌতুরাম ত্রিপুরা বলেন, দুটি ট্যুর গ্রুপের চারজন হোস্ট তাকে গাইড হিসেবে থানচি থেকে বুকিং করেন। পরে তারা তাকে এবং ৪৬ জন পর্যটককে রেমাক্রি এলাকায় রেখে পালিয়ে যান। এতে পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়েন।

এক পর্যায়ে তারা আলীকদম উপজেলার টুরিস্ট পরিবহনের সহায়তায় আলীকদম উপজেলায় পৌঁছান। বিষয়টি আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের কাছে পৌঁছালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।

পর্যটক মো. মাহামুদুল হাসান জানান, ট্রাভেল গ্রুপটি প্রতিটি পর্যটকের কাছ থেকে ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা করে তিন দিন, চার রাতের একটি প্যাকেজের মাধ্যমে তাদের বান্দরবানের থানচিতে নিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

এই বিষয়ে আলীকদম থানায় দুটি ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে আলীকদম সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন দুই ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বলেন, হয়রানির শিকার পর্যটকদের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিরাপদে ঢাকায় ফেরার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পর্যটকদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি।

এএমকে