খুলনা বিভাগে নতুন করে দেখা দিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় ৭৮ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে তিনজন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এদের ৮ মাস, ৭ মাস এবং ৫ মাস বয়সি এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফেল করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ছয় মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যার কারণে কিছু শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে আরও ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া, যশোরে ৬, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহে ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নবজাতক থেকে ৬ মাসের মধ্যে। ৬ মাসের কম বয়সি ৪ জন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি ৭ জন, ৯ থেকে ১১ মাস ৪ জন, ১ বছর থেকে ৪ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছর এর মধ্যে ২ জন, এ ছাড়া, ২০ বছরের নিচে ৩ জনের শরীরে হাম আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়েদা রুখশানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে, তার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে (খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে সেখানে তিনটি শিশুকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনটি শিশুর অবস্থাই খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের ব্যাপকভাবে একটি ভ্যাকসিনেশন ব্যবস্থা চালু করা দরকার।
মোহাম্মদ মিলন/এএমকে
