বিজ্ঞাপন

‘মাত্র একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে’

অ+
অ-
‘মাত্র একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে’

একজন কাস্টমার কল দিয়ে বলেন, যদি আমাকে ৫ লিটার পেট্রল ম্যানেজ করে দিতে পারেন তাহলে আমি আপনাদের শোরুম থেকে নতুন একটি বাইক ক্রয় করবো। সেই কাস্টমারকে জ্বালানি তেল ম্যানেজ করে দিতে না পারায় তিনি আর আমাদের শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেননি।

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোটরসাইকেল বিক্রয়ের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে এভাবেই ঢাকা পোস্টকে বলছিলেন ভোলা শহরের উকিলপাড়ায় অবস্থিত হিরো শোরুমের ম্যানেজার কাওসার আহমেদ জাবের। 

বিজ্ঞাপন

জাবের বলেন, ঈদের আগে থেকেই জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট থাকলেও আমাদের শোরুমের মোটরসাইকেল বিক্রির পরিসংখ্যান মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। গত ১ সপ্তাহ ধরে তেলের সংকট বাড়ায় মোটরসাইকেল বিক্রির হার আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ঈদের পর থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। স্টাফসহ শোরুমের অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। অথচ বেচাবিক্রি নেই। প্রতিটি বাইকের ওপর মূল্যছাড় (অফার) থাকা স্বত্বেও বিক্রি হচ্ছে না। অন্যদিকে, কাস্টমার তাদের মোটরসাইকেল সার্ভিসিং করাতেও আসছেন না। জ্বালানি তেলের কারণে আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত। 

ভোলা জেলায় মোট ১৩টি নতুন মোটরসাইকেল বিক্রির বিভিন্ন ব্রান্ডের শোরুম রয়েছে। এরমধ্যেই ভোলা শহরে ৫টি, লালমোহনে ২টি ও চরফ্যাশনে ৬টি।

এদিকে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেলের ও চালকদের লাইসেন্স লাগবে এমন খবরে বাইকারদের কিছুটা ভিড় বাড়তে শুরু করেছে ভোলা বিআরটিএ এর সার্কেল অফিসে।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিএ এর তথ্যমতে, মার্চ মাসজুড়ে ৯৯টি পেশাদার ও অপেশাদার লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি পড়েছে চলতি মাসের শেষের দিকে। এছাড়া জেলায় প্রায় ২১ হাজার রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে।
 
সুজুকি মোটরসাইকেল শোরুমের ম্যানেজার মেহেদী হাসান নাঈম আক্ষেপ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরু থেকে মোটরসাইকেল বিক্রি কম হয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত ১ সপ্তাহে মাত্র একটা বাইক বিক্রি হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সপ্তাহে এখনও একটি বাইক ও বিক্রি হয়নি।

ইয়ামাহা শোরুমের ম্যানেজার মাহিয়া ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রিতে বলা চলে ধস নেমেছে। গত ঈদে চাঁদরাতে আমাদের শোরুমের সকল মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। অথচ এবারের ঈদুল ফিতরের ১ সপ্তাহ আগে থেকে আজকে পর্যন্ত মাত্র ৭টা মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটে আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত।

টিভিএস শোরুমের ম্যানেজার মো. নুরনবী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসলে পেট্রল-অকটেন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো সম্ভব নয়। জ্বালানি তেলের সংকটে ঈদের পর থেকে বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ। কাস্টমার মোটরসাইকেল কেনার চিন্তার আগে তেল কেনার চিন্তা করে। ঈদের পর থেকে এখনো একটি বাইক ও বিক্রি করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

শহরের এসএ বাইক সার্ভিস পয়েন্টের মালিক বাহাদুর চন্দ্র বলেন, আমার দোকানে বাইকের আনাগোনা কমেছে প্রায় ৮০ ভাগ। এর কারণ হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকরা তেল না পাওয়ায় তারা মোটরসাইকেল চালাতে পারছে না। এতেই আমাদের সার্ভিস কমে গেছে। গ্যারেজে কাঙ্খিত মোটরসাইকেল সার্ভিসিং এর জন্য না আসায় দৈনিক প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এছাড়া কবে নাগাদ জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আর কবে নাগাদ আমাদের ব্যবসা স্বাভাবিক হবে তাও জানি না। 

এ রহমান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, বৈধ কাগজপত্র ব্যতীত কোনো মোটরসাইকেল চালককে আমরা পেট্রল অকটেন দিচ্ছি না।

বিআরটিএ এর ভোলা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক ও সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন,
কেউ যখন সড়কে গাড়ি চালাবে তখন তার গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালকদের আইনের আওতায় আনছি। শতভাগ গাড়ি ও চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করা গেলে এতে সরকারি রাজস্ব বাড়বে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলতে আমরা সচেতনতামূলক প্রচারণা ও চালাচ্ছি। 

এমএএস