নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই ও বাবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবারের হাল ধরার তাগিদ ছিল তার কাঁধে। তবে ঘরের অভাব-অনটন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাকে ধীরে ধীরে ঠেলে দেয় অজানা এক পথে।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও একসময় স্থানীয় দালালের মাধ্যমে লিবিয়ার পথে পা বাড়ান নুরুজ্জামান। সেখান থেকে ইতালিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ অধ্যায়।
নুরুজ্জামানের বাবা আবু সর্দার চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে বলেন, লিবিয়ায় যাওয়ার পর আমি তাকে দুইবার নিষেধ করেছিলাম, যেন আর সামনে না বাড়ে। কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। বাবার এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে না ফেরার দেশের দিকে ছেলের যাত্রার অসহায় স্বীকারোক্তি।
বড় ভাই হেলাল সর্দার জানান, গত ২২ তারিখে নুরুজ্জামানের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়। সে জানিয়েছিল, সেদিনই তারা নৌকায় উঠবে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। পরে একই নৌকার এক যাত্রী রুহান জানায়, সে আর বেঁচে নেই।
বিজ্ঞাপন
ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে হারিয়ে গেছে নুরুজ্জামানের জীবন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের স্তব্ধতা মিলিয়ে যেন পুরো গ্রামটাই এখন এক নিঃশব্দ শোকগাথা।
তামিম রায়হান/এএমকে
