মাগুরার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন। এ পরিস্থিতিতে স্বামীদের কাজে সহায়তা করতে তেল নিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন নারীরাও।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শহরের ভিটাসাইর এলাকায় অবস্থিত মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক, যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি নারীরাও তেল সংগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
সদর উপজেলার কাটাখালি এলাকার রোকসানা বেগমকে কোলে সন্তান নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমার স্বামী কৃষিকাজ করেন। তেল নিতে অনেক সময় লাগে, কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতে নিজেই তেল নিতে এসেছি।
একই চিত্র দেখা গেছে কুলছুম বেগমের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে ঠিকভাবে কৃষিকাজ করতে পারেন না। তাই স্বামীর সহযোগিতা করতে তেল সংগ্রহ করতে আসছি।
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, পাম্পে ৫-৬ জন নারী তেল নিতে এসেছিলেন। তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় না রেখে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মাগুরার জেলা প্রশাসক আব্দুল আল মাহমুদ বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সংকটের আশঙ্কায় কৃষক ও যানবাহন চালকদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ লাইনের অন্যতম কারণ।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পাম্পে জেলা প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। ট্যাগ অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।
জেলায় মোট ১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে কৃষকরা সেচযন্ত্র চালাতে ডিজেল সংগ্রহে বেশি ভিড় করছেন। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, চলমান ধান আবাদে সেচের জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন। কোনো কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ অবস্থায় কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে যতটুকু সম্ভব জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাছিন জামান/আরকে
