ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগান গ্রামের গজারিয়া খাল এখন ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে কার্যত মৃতপ্রায়। একদিকে সিমেন্ট মিশ্রিত শিল্পবর্জ্যে খাল ভরাট হচ্ছে, অন্যদিকে সেই দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের কৃষিজমিতে। এতে কয়েকটি গ্রামের কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। খালটির বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকটাই পাকা রাস্তার মতো মনে হয়।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত গজারিয়া খালটি এখন বর্জ্য নিঃসরণের স্থানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এনডিই রেডিমিক্স কোম্পানির সিমেন্ট মিশ্রিত পানি খালে ফেলা হয়। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দূষিত পানি আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কৃষিকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। কয়েক বছর ধরে ঠিকমতো ফসল তুলতে পারছি না। খালের সিমেন্ট মিশ্রিত পানি জমিতে ঢুকে মাটি নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বিজ্ঞাপন
আরেক কৃষক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, খালের পাশে আমার জমি। পানি দূষিত হওয়ায় ধানগাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। মাটি শক্ত হয়ে গেছে, কোনো ফসলই ঠিকমতো হয় না। এতে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।
কৃষকদের অভিযোগ, খালের পানি এখন লবণাক্ত ও শিল্প বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পুরো ফসলই বিনষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনডিই রেডিমিক্স কোম্পানির ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, সিমেন্ট মিশ্রিত কিছু পানি খালে যাচ্ছে এটা সত্য। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। হেড অফিসে জানানো হয়েছে। দ্রুত খাল খননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। খুব শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শনে যাব। সিমেন্ট বা কংক্রিট মিশ্রিত পানি জমিতে পড়লে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়। এতে মাটি শক্ত হয়ে যায় এবং ফসলের শিকড় পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না। ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ত্রিশাল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, অবিলম্বে খালে শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প সেচযোগ্য পানির ব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আরকে
