বিজ্ঞাপন

লিবিয়ায় ১৭ দিনের বন্দিদশা

‘আমার ছেলেটা গেমঘরে না খেয়েই মারা গেছে’

অ+
অ-
‘আমার ছেলেটা গেমঘরে না খেয়েই মারা গেছে’

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মাওলানা সাজিদুর রহমান (২৮)। মাদরাসায় পড়াশোনা শেষ করে পাশের কুলঞ্জ গ্রামের একটি মাদরাসায় কিছুদিন শিক্ষকতা করেন তিনি। শান্ত স্বভাবের এই তরুণের স্বপ্ন ছিল একদিন বিদেশে গিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটানো।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের কৃষিজীবী আব্দুল গণির তিন ছেলের মধ্যে সাজিদুর দ্বিতীয়। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি নিজের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, পরিবারকেও সাহায্য করতে চেয়েছেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়।

গ্রামের আরও কয়েকজন তরুণের মতো সাজিদুরও ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েন। একই গ্রামের দালাল মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরিবার ভেবেছিল, নতুন জীবনের শুরু হবে। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ হয়ে গেল সাগরের বুকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হন সাজিদুর। যাওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় নৌকায় ওঠার ঠিক আগে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি তার সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

সাজিদুরের বাবা আব্দুল গণি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দালাল মুজিবের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি ছিল। বলা হয়েছিল, বড় স্টিলের নৌকায় করে নেওয়া হবে। কিন্তু পরে জানা যায়, তাকে প্লাস্টিকের ছোট নৌকায় তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সাজিদুরকে ‘গেমঘর’ নামে একটি স্থানে ১৭ দিন বন্দি করে রাখা হয়। সেই সময় তাকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অনাহারে ছেলেটা দুর্বল হয়ে পড়েন। নৌকায় তোলার পরেও কোনো খাবার দেয়নি। আমার ছেলেটা না খেয়েই মারা গেছে, বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আব্দুল গণি।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়াই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।

বিজ্ঞাপন

তামিম রায়হান/এএমকে

বিজ্ঞাপন