নেত্রকোণায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। জেলায় হামে আক্রান্ত ১০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ৪৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই নয় মাসের কম বয়সী শিশু। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এবং চলতি বছরের শুরুতে টিকার সংকট এবং নিয়মিত টিকা গ্রহণ না করায় শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেড়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও জনবল সংকট, পর্যাপ্ত ওষুধ ও বেডের অভাবে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
এদিকে আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে একজন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জন রোগী নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে এবং আরও ২ জন কোনো অনুমতি ছাড়াই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাজহারুল আমিন জানান, রোগীর চাপ বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের প্রস্তুতি ও জনবল সীমিত। তবুও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
বিজ্ঞাপন
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী রোববার থেকে জেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
সিভিল সার্জন বলেন, হাম আসলে খুবই সাধারণ একটি রোগ। যেটা কখনও কখনও কারো ক্ষেত্রে একটু সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদেশে এমনকি সারা পৃথিবীতে ইদানিং হামের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে। হামের সঙ্গে রুবেলা বা এরকম কিছু ভাইরাস আছে, যেগুলোর একই রকম উপসর্গ নিয়ে তারা ভর্তি হয় । কেউ যদি এরকম উপসর্গ নিয়ে আসে, তাহলে তার স্যাম্পলটা আমরা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠাই। রিপোর্ট আসার পরে আমরা নিশ্চিত হই, এটা হাম নাকি অন্য কিছু।
তিনি আরও বলেন, এবারের হাম সংক্রমণের ক্ষেত্রে বেশি সমস্যার কারণ হলো নিউমোনিয়া। বিশেষ করে যে বাচ্চাদের পুষ্টির অভাব রয়েছে অথবা অন্য কোনো সমস্যা, যারা একটু আর্লি জন্ম নেয়, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যাটা বেশি হয়।
বিজ্ঞাপন
এবারের হাম সংক্রমণের ক্ষেত্রে ৭০ ভাগ বাচ্চা নয় মাস বয়সের আগেই হাম আক্রান্ত হয়েছে। হামের টিকা সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু ৭০ ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রেই টিকা দেওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা রোববার থেকে টিকাদানের বিশেষ কার্যক্রম শুরু করব। যেন কোনো বাচ্চাই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে সে চেষ্টা করব।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/এসএইচএ
