বিজ্ঞাপন

কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ: প্রতিমন্ত্রী টুকু

অ+
অ-
কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে সারাদেশে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এইদিন টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি আয়োজনের প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় এটি জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। সেই কৃষকদের জন্য আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে এই টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন। আমরা প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ পরিদর্শন করেছি এবং প্রোগ্রামের সুষ্ঠু আয়োজনের বিষয়গুলো দেখছি। এটি নবান্নের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হবে।

বিজ্ঞাপন

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের দিন। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষকদের জন্য, মেহনতি মানুষের জন্য জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। সেই মাওলানা হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল কৃষি কার্ড উদ্বোধন হবে, অত্যন্ত গর্বের।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষ এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বৈশাখী মেলা, কৃষি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে, যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ওইদিন টাঙ্গাইল থেকে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের পাশাপাশি দেশের আরও ৯টি স্থানে একই সময়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯টি স্থানে বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষকই এ সুবিধার আওতায় আসবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত। এসময় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সার্বিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা মতামত প্রদান করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে এসএসএফ, কৃষি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের কঠোর নির্দেশনা দেন। 

সভায় জানানো হয়, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ১৫ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেবেন। এছাড়া শহরের পৌর উদ্যানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও আউটার স্টেডিয়ামে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।

আরিফুল ইসলাম/এসএইচএ