নিজের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষোভে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ছেলের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছেন যুবক রনি। এ সময় পালিয়ে নিয়ে যাওয়া ছেলের মাকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা এবং আরও তিনজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী রনি মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুকানুপুর ইউনিয়নের তালুকানুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে ঝালকাঠি জেলার মারুফা বেগমকে বিয়ে করেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিলখারা ইউনিয়নের রনি মিয়া (৩০)। তাদের সংসারে কোনো সন্তান নেই। এরই মধ্যে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মৃত শামসুল হকের ছেলে দিপুর (৩০) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে মারুফার। পরে গত ২০ মার্চ দিপু তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রনি শুক্রবার তালুকানুর গ্রামে দিপুর মামার বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় দিপুর মা হেলেনা বেগমকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি দিপুর মামা বাবলু মিয়া, মামাতো বোন শেফালী আক্তার ও পাপরী খাতুনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত হেলেনা বেগমকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, হামলার পর স্থানীয়দের হাতে আটক হন রনি মিয়া। উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই আখতার জানান, ফেসবুকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, হামলাকারী রনি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বিজ্ঞাপন
এসএইচএ
