বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, বিএনপি তৃণমূল নেটওয়ার্কের প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, অতীতে বিশ্বের বুকে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতাম- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অতীতের সরকারগুলোর ভুল সিদ্ধান্ত, নীতিগত দুর্বলতা এবং সময়োপযোগী উদ্যোগের অভাবের কারণেই আমরা আজ হামের টিকার এই সংকটে পড়েছি।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, একটা বাচ্চাও যদি হামে মারা যায়, তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারো নেই। এটি শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত ব্যর্থতা, জাতির জন্য লজ্জার। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকার, স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা এবং জনগণসহ সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামের এই প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, টিকা সংগ্রহে ধীর গতি, সময়মতো ইমিউনাইজেশন কার্যক্রম না চালানো এবং মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের অভাব এর জন্য দায়ী। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এ সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে ইউনিসেফ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানো, আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
বিজ্ঞাপন
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশ অতীতেও নানা জনস্বাস্থ্য সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে হামের এই পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ এবং দায়িত্বশীল আচরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল, ঝালকাঠি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব), শেগুফতা মেহনাজসহ আরও অনেকে।
শাহীন আলম/আরকে
