বিজ্ঞাপন

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, যশোরে লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি

অ+
অ-
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, যশোরে লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি

যশোরে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার (৫ এপ্রিল) আকাশ মেঘলা থাকলেও এরআগের দুই দিন জেলার তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। এ অবস্থায় মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন শহরে ৪-৫ বার করে লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও শোচনীয়। চাষীরা ঠিকমতো ধানক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি গরমে ঘেমে একাকার হচ্ছেন মানুষ।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) যশোরের বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিরতণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মাহমুদ প্রধান বলেন, ওজোপাডিকো-১ ও ২ এর অধীনে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৫৮ মেগাওয়ার্ট। চাহিদার বিপরীতে সেখানে মিলছে ৪৬ থেকে ৪৮ মেগাওয়ার্ট। প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে অন্তত ১০ মেগাওয়ার্ট। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

শহরের এই চিত্রের চেয়ে কয়েকগুণ খারাপ অবস্থা গ্রামে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যশোর-১ এর অধীনে শার্শা, বেনাপোল, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়ায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৫৬ মেগাওয়ার্ট। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ১০০ মেগাওয়ার্ট। এ হিসেবে প্রতিদিন ঘাটতি ৫৬ মেগাওয়ার্ট। আর এ ঘাটতির কারণে গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিদ্যুতেও লেগেছে। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে সরকার অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে।

যশোর শহরের এমএম আলী রোড এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী শিলা খাতুন জানান, প্রতিদিন তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে অন্তত আধা ঘণ্টা লাগছে বিদ্যুৎ আসতে।

শহরের খড়কি এলাকার রিকশাচালক ফারুক হোসেন বলেন, রোদে গা পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এরপর আবার লোডশেডিং হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ইরি ধানে সেচ দিতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। কিছু কিছু ধানক্ষেত শুকিয়ে গেছে। এখন পানির সমস্যা হলে ধান চিটা হয়ে যাবে।

আবহাওয়া অফিস মতে, শনিবার যশোর জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরআগের দিন শুক্রবারও কাঠফাঁটা রোদ পড়ে।

এদিকে গত কয়েকদিন খুলনা বিভাগের জেলাসমূহের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। তবে রোববার মেঘলা ছিল যশোরের আকাশ। ছিটেফোটা বৃষ্টিও হয়েছে।

রেজওয়ান বাপ্পী/এসএইচএ