‘সোমবার তেল দেওয়া হবে’—এমন খবর ছড়িয়ে পড়তে এক দিন আগেই ফিলিং স্টেশনে ভিড় জমাতে শুরু করেন মোটরসাইকেল চালকরা। দ্রুত জ্বালানি পাওয়ার আশায় কেউ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা, কেউ দুপুর, আবার কেউ সন্ধ্যা থেকেই পাম্পের সামনে বাইক রেখে অপেক্ষা করছেন। পাম্প এলাকায় জায়গা না হওয়ায় কেউ কেউ সড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়েই অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার পুলিশ লাইন-সংলগ্ন হাসনা ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় অন্তত ৩০০ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা।
পাম্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আগে কখনো এত মোটরসাইকেলের চাপ দেখা যায়নি। বাইরের এলাকা থেকেও বিপুলসংখ্যক বাইক আসছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। অনেকে বাড়িতে অতিরিক্ত তেল মজুত করায় সংকট আরও বেড়েছে বলেও জানান তারা৷ তারা জানান এক শ্রেণির বাইকচালক তেল সংগ্রহ করে তা বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। ফলে সংকট দিনদিন বাড়ছে।
এ সময় সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসনা পাম্পের মাঠভর্তি মোটরসাইকেল। পাশাপাশি গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের একপাশজুড়ে দীর্ঘ লাইন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তারা দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন। কেননা, ওই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়তই বড় বড় ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে।
বিজ্ঞাপন
মাঠে সিসি ক্যামেরা থাকায় অনেকে বাইক রেখে বাড়ি গেলেও সড়কের পাশে রাখা বাইকের মালিকরা নিরাপত্তার জন্য সেখানেই অবস্থান করছেন। কেউ মোবাইল দেখে সময় পাড় করছেন। কেউ কেউ দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।
হাসনা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার সকাল ৯টা থেকে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হবে। সোমবার তেল দেওয়ার খবরে সকাল ৯টা থেকে বাইক নিয়ে আসতে শুরু করে এবং এখনো আসছে।
তেলের আশায় অপেক্ষমাণ শফিকুর রহমান নামে একজন। যিনি মোটরসাইকেলে ভ্রাম্যমাণ হরেক রকমের ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় বাইক রেখে গেছি। সকালে তেল নিয়ে গ্রামে যেতে পারলে ব্যবসা করতে পারব, না হলে পুরো দিনটাই নষ্ট। রাত জেগে হলেও তেল পেতে হবে।
বিজ্ঞাপন
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, বিকেল ৫টায় এসে দেখি মাঠভর্তি গাড়ি। জায়গা না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়েছে। কিছু করার নাই তেল লাগবে।
ফুলছড়ি উপজেলার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টায় এসেছি। কাল স্কুল আছে, দিনে এলে তো স্কুল হবে না। আবার তেল পাওয়ার নিশ্চয়া থাকবে না। এজন্য সারারাত জেগে থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকলেও উপায় নেই!
একইভাবে মেডিসিন কোম্পানির প্রতিনিধি আব্দুল গফুর বলেন, আগেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে কাজের ক্ষতি হচ্ছে, টার্গেট পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর আগে গেল শুক্রবার সকাল ৬টায় তেল নিতে এসে বেলা আড়াইটায় ৩০০ টাকার তেল পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পাম্প মালিকদের বৈঠকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হবেনা-এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পাম্প মালিকরা বলছেন, শহরের প্রবেশমুখে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও ফুয়েল কার্ড চালু করা হলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্টের বিকল্প নেই। একইসঙ্গে ফুয়েল কার্ড চালু জরুরি।
জেলায় জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩০ মার্চ থেকে ২২টি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা মজুত যাচাই, সরবরাহ পরিমাপ এবং রেকর্ড তদারকিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও সংকট কাটেনি—বরং ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। জেলা শহরে চারটি পাম্পের মধ্যে আজ (রোববার) বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন আর রহমান পাম্পে মোটরসাইকেলে ৩০০০ লিটার তেল দেওয়া হয়।
এএমকে
