বিজ্ঞাপন

চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে লঞ্চেই প্রাণ গেল শিশু আরিফার

অ+
অ-
চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে লঞ্চেই প্রাণ গেল শিশু আরিফার

উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় নেওয়ার পথে আরিফা নামে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃত শিশুটির স্বজনদের গগণবিদারী আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে যাত্রী বোঝাই লঞ্চের পরিবেশ। তবে লঞ্চটিতে অক্সিজেন সরবরাহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা না থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে সদরঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে লঞ্চের ২য় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটি ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার হাট এলাকার চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা আরিফ ও রোজিনা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা বলে জানা গেছে।

শিশুটির পরিবার ঢাকা পোস্টকে জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ ডায়ারিয়া জনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফা। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভোলার ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে বরিশালে রেফার্ড করা হলে স্বজনরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য এদিন দুপুর ২টার দিকে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চে ওঠেন। সেখানেই প্রাণ যায় শিশুটির।

বিজ্ঞাপন

শিশুটির মা রোজিনা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভোলা থেকে আমার মেয়েকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথেই লঞ্চে মেয়েটি মারা গেল। 

তবে লঞ্চটিতে অসুস্থ রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লঞ্চে থাকা যাত্রী মো.তুহিন, ইব্রাহিম, রনি ও ছিদ্দিকুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে যদি লঞ্চটিতে অসুস্থ রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ থাকতো তাহলে হয়তো অসুস্থ শিশুটির প্রাণ রক্ষা করা যেত। আমরা ভোলাবাসী সবদিক থেকেই বঞ্চিত। চিকিৎসার জন্য ঢাকা-বরিশাল নেওয়ার পথেই আমাদের এবং সন্তানদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। এছাড়া ভোলা-বরিশাল সেতুসহ ভোলা-ঢাকা রুটের প্রতিটি লঞ্চে ডাক্তারসহ প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখার দাবিও জানান যাত্রীরা।

দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চের কেরানী মো. হারেছ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি যখন টিকেট কাটতে গিয়েছি তখন দেখেছি বাচ্চাটিকে তার স্বজনরা কোলে নিয়ে বসে আছেন, বলেছিল অসুস্থ। তবে তারা আমাদের কাছে (লঞ্চ কতৃপক্ষ) কোনো সহযোগিতা চাননি। লঞ্চটি পুরাতন মডেলের হওয়ায় এ লঞ্চে মরদেহ রাখার যথাযথ ব্যবস্থা নেই, আমাদের কোম্পানির অন্য লঞ্চে আছে। লঞ্চ যেহেতু সদরঘাটের কাছাকাছি পৌঁছেছে সেক্ষেত্রে আমরা বাচ্চাটির লাশ কেবিনে রাখার ব্যবস্থা করছি এবং স্বজনরা চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

খাইরুল ইসলাম/আরকে

বিজ্ঞাপন