বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার সীমান্তে বিজিবির ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের রেকর্ড

অ+
অ-
কক্সবাজার সীমান্তে বিজিবির ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের রেকর্ড

কক্সবাজার সীমান্তে নাফ নদীর জলসীমা পেরিয়ে আসা ইয়াবার বড় একটি চালান রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে এক দিনেই জব্দ করা হয়েছে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা, যা বিজিবির ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের রেকর্ড। উদ্ধারকৃত এই মাদক চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোররাত ও দুপুরে বিজিবির রামু সেক্টরের আওতাধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) ও রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এসব অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। বিজিবির হ্নীলা বিওপির টহল দল থার্মাল ইমেজার ব্যবহার করে নিশ্চিত হয় যে, একদল চোরাকারবারি নদী সাঁতরে মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

চোরাকারবারিদের ধরতে বিজিবি সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান (অ্যাম্বুশ) নিলে তারা টের পেয়ে যায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে কারবারিরা তাদের সঙ্গে থাকা মাদকের বস্তাগুলো ফেলে দ্রুত নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৩টি পোটলা উদ্ধার করেন। এসব পোটলা থেকে ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখান থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের আরও ২ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

জব্দকৃত মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক, জ্বালানি তেল ও সার পাচার রোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত দুই মাসে উখিয়া ব্যাটালিয়ন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কেজি সারসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে বিজিবির এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এসএএ/বিআরইউ