রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ভূমি অফিসের জানালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। রহস্যজনক এ ঘটনায় কোনো কিছু খোয়া গেছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে গোয়ালন্দ পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফকির মহিউদ্দিন আনসার ক্লাব-সংলগ্ন উজানচর ভূমি অফিসটিতে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ পরিদর্শন করে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত যে কোনো সময় রাতের আঁধারে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
পরিদর্শনকালে অফিসের পেছনের জানালার লোহার গ্রিল ও বেশ কয়েকটি তালা ভাঙা, আলমারি ও কেবিনেট খোলা এবং নথিপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
উজানচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা আনছার আলী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস তালা দিয়ে তারা বাড়ি চলে যান। রোববার সকালে এসে ভেতরের দরজার তালা খুললে সেটা আর খুলতে পারেননি। পরে ভেতর থেকে দরজার তালায় ছিটকিনি লাগানোর কার ভাঙতে হয়েছে। পরে ভেতরে গিয়ে দেখতে পান জানালার গ্রিল ভেঙে দুর্বত্তরা রেকর্ডরুমের তালা ভেঙে দুটি আলমারির চারটি ড্রয়ার ভেঙে মালামাল তছনছ করে এবং একটি ফাইল কেবিনেট যার আটটি ড্রয়ার ভেঙে মালামাল তছনছ করা।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, অফিসে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। তবে অফিসে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও প্রিন্টার যথাস্থানে রয়েছে। রেকর্ডপত্র কিছু নিয়েছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। আমরা প্রতিটি রেকর্ড বই যাচাই করে দেখছি। দুর্ধর্ষ এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি ধারনা করে বলেন, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মূল্যবান কোনো ইলেকট্রনিকসামগ্রী নেয়নি। তবে তারা মূল্যবান কোনো নথি- সেটা কোনো রেকর্ড বইয়ের পাতাও হতে পারে যা গায়েব করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যাচাইয়ের কাজ করছি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, কী উদ্দেশে চোরেরা নথিপত্র তছনছ করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অফিসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস বা অন্য কোনো কিছু খোয়া গেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
ভূমি অফিসে এমন ঘটনার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত কোনো তৎপরতা কিনা তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এএমকে
