বিজ্ঞাপন

প্রবাসে মাটিচাপায় মৃত্যু, লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন রুহুল আমিন

অ+
অ-
প্রবাসে মাটিচাপায় মৃত্যু, লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন রুহুল আমিন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর পুকুরপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী রুহুল আমিনের (৩৮) মৃত্যুকে ঘিরে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া সেই প্রবাস জীবনই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তার প্রাণ।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে বেলা ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুর ১০ দিন পর প্রিয়জনদের কাছে লাশ হয়ে ফিরে আসায় এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। মৃত রুহুল আমিন দেবীপুর পুকুরপাড়া গ্রামের মৃত বয়েন উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার জহুর বারু এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন রুহুল আমিন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরে কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে তিনি চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মৃতের মেজ মেয়ে রুনা লায়লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা আমাদের এতিম করে চলে গেলেন। আমরা দুই বোন ও এক ভাই, এখন মা ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। বাবা কোরবানির ঈদে বাড়ি আসার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই লাশ হয়ে ফিরলেন। তিনি আরও জানান, ড্রেনের নিচে কাজ করার সময় অন্যরা উপরে উঠলেও তার বাবা উঠতে গিয়ে মাটিচাপা পড়েন।

বিজ্ঞাপন

ভাতিজা ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার চাচা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সেখানে তিনি ড্রেন নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন। কাজ শেষে উপরে ওঠার সময় মাটি ধসে পড়ে তিনি মারা যান। সহকর্মীরা দ্রুত লাশ দেশে পাঠাতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

মৃতের বড় ভাই বজলুর রহমান বলেন, পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্যই সে প্রবাসে গিয়েছিল। কিন্তু আমার আগেই সে চলে গেল। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক শিশু সন্তান রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও পরিবারটিকে সহায়তা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত রুহুল আমিনের বৈধ কাগজপত্র দাখিল করা হলে, সরকারি যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।

প্রবাস জীবনের স্বপ্ন ভেঙে রুহুল আমিনের এমন মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

আরকে

বিজ্ঞাপন