‘খনা আছে জনে জনে, খনা আছে সব জীবনে’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোণায় তৃতীয়বারের মতো খনার মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন বাংলার কৃষিভিত্তিক জ্ঞান, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তির ভোরে কেন্দুয়া উপজেলার আঙ্গারোয়া গ্রামে মঙ্গলঘর পরিসরের আয়োজনে দিনব্যাপী শুরু হয় এই মেলা। দেশ-বিদেশ থেকে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
এর আগে দুই দফায় খনার মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মেলায় খনার বাণীভিত্তিক প্রদর্শনী, কৃষি ও গ্রামীণ জীবনের নানা দিক তুলে ধরা স্টল, হস্তশিল্প, দেশীয় পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকগান, কবিতা আবৃত্তি এবং আলোচনা সভা। এসব আয়োজনে খনার বাণীর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন স্থানীয় গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
বিজ্ঞাপন
মেলায় আসা বাউল শিল্পী গুরু প্রিয়া বলেন, এটি আসলে খুব প্রাণবন্ত। গ্রামের মানুষজনের আনন্দিত অংশগ্রহণ আমাদের এই সময়ে একটি দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।
মেলার প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর অংশগ্রহণ অনেক বেশি। দেশ-বিদেশ থেকে বন্ধু ও পরিচিতরা এসেছেন। খনার যে শক্তি, সেটি আমাদের নিজের মাটির শক্তি। হাজার হাজার বছর ধরে কৃষকের যে জ্ঞান, তাই খনার বচনের মাধ্যমে প্রকাশিত।
আয়োজকরা জানান, আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ জ্ঞান ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এই মেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।
বিজ্ঞাপন
চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরএআর
