বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দেশের বৃহত্তম তেলের খনি রয়েছে- এমন একটি দাবিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চললেও সরেজমিনে গাবতলীর কলাকোপা তল্লাতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
বিজ্ঞাপন
সেখানে খননস্থলটি বর্তমানে ইট ও কংক্রিট দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং ওপরের বড় গর্তের চিহ্নটি সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করা অবস্থায় পড়ে আছে। মূলত আশির দশকের একটি অনুসন্ধান কাজকে কেন্দ্র করেই বর্তমান এই আলোচনার সূত্রপাত।
জানা যায়, ১৯৮৪ সালে পেট্রোবাংলার অধীনস্থ বাপেক্স গাবতলীর এই অঞ্চলে খনিজ সম্পদের সন্ধানে প্রথম বিশাল পরিসরে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা এই খনন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৮৭ সালে হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং খননকৃত কূপের মুখটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর বিরতি দিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার পুনরায় ওই এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। দ্বিতীয় দফার এই কার্যক্রমে প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন এবং প্রায় ৭৫ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন কাজ চালানো হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও কোনো জ্বালানি সম্পদের অস্তিত্ব বা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জেল হক নামে স্থানীয় এক শ্রমিক আশির দশকে প্রথম দফার অনুসন্ধানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, সে সময় তেল উত্তোলনের জন্য বিশাল সব যন্ত্রপাতি আনা হয়েছিল এবং তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ২৫টি ড্রাম প্রস্তুত রাখতে। সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কোনো কারণ না জানিয়েই খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং রাতারাতি কূপটি বন্ধ করে প্লাস্টার করে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন ইসলাম বলেন, তিন-চার দশক আগের তুলনায় বর্তমানের প্রযুক্তি অনেক বেশি উন্নত। সেই সময় তেল না পাওয়া গেলেও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আরও গভীর ও সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান চালালে এখানে অবশ্যই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলবে।
গ্রামবাসীর দাবি, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই এলাকায় নতুন করে সার্ভে বা জরিপ পরিচালনা করা হোক।
এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান একটি অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর প্রক্রিয়া। এখানে পুনরায় কোনো কাজ শুরু করতে হলে পেট্রোবাংলাকে আগে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। যেহেতু এতে বিপুল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বিষয় জড়িত, তাই বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক সার্ভে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, পূর্বের দুই দফার অনুসন্ধানের ডাটা বা তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তবে সরকার অবশ্যই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরবে যাতে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা পুনরায় খতিয়ে দেখার সুযোগ পান।
প্রসঙ্গত, গাবতলীর তল্লাতলা গ্রামে প্রায় ২৭ বিঘা জমিতে প্রথম দফার অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় দফায় এতে অংশ নেন প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে দুই দফাতেই জ্বালানি সম্পদের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।
আব্দুল মোমিন/আরএআর
