সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে জ্বালানি তেল কিনতে ‘ফুয়েল কার্ড’ ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসন। রোববার (১২ এপ্রিল) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ তথ্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
বিজ্ঞাপন
কুড়িগ্রামে ‘পর্যাপ্ত’ জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি চলমান থাকলেও মোটরসাইকেল চালকদের ‘কৃত্রিম চাহিদা’ পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছে। অনেকে মোটরসাইকেলে করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে পরে তা কালো বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। দলবেধে ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল কিনে পরে তা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দলবেধে গিয়ে তেল কেনার নামে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে ‘মব সৃষ্টির’ চেষ্টা করছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে কালোবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘ফুয়েল কার্ড’ ইস্যুর মাধ্যমে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) ‘ফুয়েল কার্ড’ ইস্যুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা তাদের স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওর কার্যালয় থেকে ‘ফুয়েল কার্ড’ সংগ্রহ করবেন। সেক্ষেত্রে গ্রাহককে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে। তবে গ্রহকরা প্রাপ্যতা সাপেক্ষে ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবহার করে যেকোনো ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন। কৃষকরা আগের নিয়মেই সেচের জন্য ডিজেল নিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, ‘সবার চাহিদা ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও ফুয়েল কার্ড ইস্যু করবেন। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় কার্ড ইস্যু শুরু হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে জেলাজুড়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও জেলা ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ
