বিজ্ঞাপন

মারমাদের সাংগ্রাইয়ে জলকেলির উচ্ছ্বাস

অ+
অ-
মারমাদের সাংগ্রাইয়ে জলকেলির উচ্ছ্বাস

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব বৈসাবি-এর আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি। মারমা সম্প্রদায় মেতে উঠেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবে। 

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানখাইয়াপাড়া বটতলায় সাংগ্রাই র‌্যালির উদ্বোধন করা হয়। এতে মারমা নারী পুরুষ বর্ণিল সাজে নেচে গেয়ে অংশ নেন এবং শহরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেন।

র‌্যালি শেষে শুরু হয় সাংগ্রাই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ জলকেলি। এতে অংশ নেন মারমা তরুণ তরুণীরা। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তারা একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে রঙিন ও প্রাণবন্ত।

জলকেলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিওন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। এসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ মারমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় উৎসব। মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে, জল ছিটিয়ে গানের তালে চলে নৃত্যানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া চিংলামং চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর সাংগ্রাই উৎসব কেন্দ্র করে পানখাইয়া পাড়া মহামিলন ঘটে। ঐতিহ্যগত যাই থাকুক, এ উৎসবে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম ঘটে। একসাথে আনন্দ করে। এটাই সাংগ্রাই উৎসবের বড় প্রাপ্তি। 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সানু মং মারমা বলেন, সাংগ্রাই মারমা সম্প্রদায়ের হাজার বছরের সংস্কৃতি। বংশপরম্পরায় এ উৎসব পালন করে আসছি। পানি মানেই জীবন, তাই বছরের প্রথম দিনে পানি দিয়ে আমরা শুরু করছি। সে কারণে পানি খেলা উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

জলকেলি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, অতিথি ও সংবাদকর্মীরা। বছরের এই একটি দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে সবার মধ্যেই ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, চাকমা সম্প্রদায় আজ বিজু উৎসবের শেষ দিন ‘গজ্জাপজ্জা’ পালন করছে এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায় আজ মূল বৈসু উদযাপন করছে।

মোহাম্মদ শাহজাহান/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন