বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে বাঁধভাঙা বন্যার মতো মানুষ বর্ষবরণে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরগুলোতে আমরা ১০টা-১১টার পর রাস্তায় তেমন মানুষ দেখতে পাইনি। পরে সন্ধ্যায় আবার কিছু মানুষ দেখেছি। এবার সকাল থেকেই মানুষ জলোচ্ছ্বাসের মতো বেরিয়ে আসছেন।
পহেলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিসিক এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রধান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখে গ্রামীন জীবনে বৈশাখী মেলার ঐতিহ্য শুরু হয়েছে হাজার বছরেরও আগে। সেটিই এখন নগরজীবনেও বিস্তার ঘটেছে। গ্রামের পরিবেশে কৃষক সংস্কৃতিতে সর্বপ্রথম বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন হিসেবে মেলার প্রচলন শুরু হয়েছিলো। যেহেতু আমাদের শহরের ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ গ্রামীন পরিবেশে বেড়ে উঠৈছে। তাই তারা সেই গ্রামীন ঐতিহ্যকে ধীরে ধীরে শহরে নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, আজকে বাংলা একাডেমিতে যে মেলার আয়োজন করা হয়েছে এর জন্য আমরা বিসিক ও বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাই। এই শিল্প উদ্যোক্তাদের এই মেলা গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ুক, সেটি আমরা চাই।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্টতম দিন বাংলা নববর্ষ। গত দেড় দশকের বেশি সময়ে প্রত্যেকটি পহেলা বৈশাখ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিক বর্ষবরণ হবে নাকি অপ্রত্যাশীত কোন ঘটনা ঘটবে, সেই ভয় বিরাজ করতো। আগের প্রত্যেকটি পহেলা বৈশাখে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা, চার স্তরের নিরাপত্তা, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে হয়েছে। এবছর সেই নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ যে কতটা শান্তিপ্রিয়, কতটা সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক তা এবারের বর্ষবরণ দেখে আমরা বুঝতে পারি।
তিনি বলেন, এবার বর্ষবরণে সকাল থেকেই যে সংখ্যায় মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে, তা অভূতপূর্ব। তাছাড়া শৃঙ্খলায়ও কোথাও কোন ব্যতয় ঘটেনি। নিরাপত্তারও অভাব নেই। আমরা যে শান্তিপ্রিয় মানুষ,তা আজকে প্রমাণ হয়ে গেছে। দীর্ঘবছর ন্যারেটিভের আড়ালে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার যে সংস্কৃতি ছিলো, সেটি থেকে এখন আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি।
আয়োজকরা জানান, মেলায় মোট ১৬০টি স্টর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানির ৬টি, নকশিকাঁথার ৪টি, বস্ত্রের ৪৪টি, শতরঞ্জির ৫টি এবং মণিপুরি শাড়ির ২টি স্টল। এছাড়াও কারুশিল্পী জোন, শিশুদের রাইড ও বিনোদন জোন, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ১৩টি স্টল বরাদ্দ রয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পীদের জন্য ১৩টি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ২টি এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য ১টি স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় পাওয়া যাবে কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, লোকজ পণ্য, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য। থাকবে জামদানি, শতরঞ্জি ও শীতলপাটির মতো জিআই পণ্য। এছাড়া কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, হস্ত ও মৃৎশিল্পজাত পণ্য, খেলনা, রূপসাজসজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন লোকজ খাদ্যদ্রব্য।
নববর্ষকে উৎসবমুখর করতে ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করে আসছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান।
এমএমএইচ/এমএসএ
