বিজ্ঞাপন

পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানো হলো না সোহানের, কফিনবন্দি হয়ে ফিরল মায়ের কোলে

অ+
অ-
পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানো হলো না সোহানের, কফিনবন্দি হয়ে ফিরল মায়ের কোলে

স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর, কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ হলো গুলির শব্দে। দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রবাসী সোহানের নিথর দেহ অবশেষে ফিরে এসেছে তার নিজের গ্রামে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামে পৌঁছায় সোহানের মরদেহ। গ্রামের আকাশ যেন মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠেছিল স্বজনদের কান্নায়। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দেশের চিরচেনা সেই মাটিতেই শেষ ঠিকানা হলো সোহানের।

নিহত সোহান রাণীশংকৈলের চিকনমাটি গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। সন্তানের নিথর দেহ দেখে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বুকফাটা কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা সাহিনুর বেগম।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার ছেলেটারে বাড়ির পাশেই রাখতে চেয়েছিলাম, আল্লাহ সেই ইচ্ছা পূরণ করছে। কিন্তু আমি তো আমার ছেলেকেই আর ফিরে পাবো না! 

বিজ্ঞাপন

ছেলের মরদেহ দেশে আনতে তাদের কোনো খরচ করতে হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন। তারা ফান্ড সংগ্রহ করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ জন্য তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহান মাস কয়েক আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। পরিবারের হাল ধরতেই বিদেশযাত্রা করেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ হয়ে গেল নির্মমভাবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা বলেন, সোহান হাসিখুশি ছেলে ছিল। সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় বিদেশে গিয়েছিল। আজ লাশ হয়ে ফিরল। এটা মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কাতলেহং এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সোহান সেখানে একটি দোকানে কাজ করতেন। ঘটনার দিন মাগরিবের সময় তিনি দোকানের মালিকের সঙ্গে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে দোকানের মালিক মোমবাতি আনতে পেছনে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সোহান।

রেদওয়ান মিলন/এনটি

বিজ্ঞাপন