গাছ কাটা দ্বন্দ্বে দুই প্রধান শিক্ষকের মারামারি

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৫ পিএম


গাছ কাটা দ্বন্দ্বে দুই প্রধান শিক্ষকের মারামারি

ঝগড়ার সূত্র ধরে প্রকাশ্যে একে অন্যের গালে চড় মারলেন দুই প্রধান শিক্ষক। এ সময় একজন চড়-থাপ্পড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে টিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। দুই প্রধান শিক্ষকের এমন কাণ্ডে হতবাক এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট বাজার মসজিদের সামনে এমন ঘটনাটি ঘটেছে।

ওই দুই শিক্ষক হলেন সোনাহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ও সোনাহাট সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফাজ আলম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই শিক্ষকের একই সীমানায় জমি রয়েছে। এই জমির গাছ ও বাঁশ নিয়ে মঙ্গলাবার দুপুরে সোনাহাট বাজারের জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে ফলের দোকানের সামনে ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে দুজনের মধ্যে প্রথমে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে একে অপরকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটে।

তারা আরও জানান, বাগবিতণ্ডার এক পর্যায় সোনাহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন সোনাহাট সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফাজ আলমের গালে চড় মারেন। প্রতিউত্তরে আলফাজ আলমও আলমগীরের গালে চড় মারেন। পরে আবারও তা দুজন দুজনকে মারেন। এ সময় দুজনেরই চোখের চশমা পড়ে যায়।

পরে বলদিয়া ইউনিয়নের ব্যাপারীটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজদার হোসেন উপস্থিত হয়ে তাদের নিবৃত করেন। এ সময় আলফাজ আলমের চোখের নিচে কেটে গেলে তাকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ করেন তিনি।

আলফাজ আলম বলেন, আলমগীর হোসেনের বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমি রয়েছে আমার। বেশ কিছুদিন আগে ওই জমিতে লাগানো কয়েকটি গাছ কেটে নেন আলমগীর হোসেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই জমিতে থাকা প্রাশ ১০০ বাঁশ কেটে নেন তিনি। আমাকে না জানিয়ে এগুলো কাটায় তার কাছে জানতে চাইলে আমার ওপর চড়াও হন তিনি।

একপর্যায় প্রকাশ্যে আমাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে আমার চোখের নিচে ফেটে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হই এবং থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিই।

এ বিষয়ে সোনাহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের তার মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো. জুয়েল রানা/এনএ

Link copied