এক টাকার নিচের পাঁচ এনবিএফআইয়ের শেয়ারে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি

অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়াধীন থাকা ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে পাঁচটির শেয়ারের দাম কমতে কমতে এক টাকার নিচে নেমে এসেছিল। দীর্ঘদিন ধরে দরপতনে থাকা এসব শেয়ার হঠাৎ করেই আজ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত এক টাকার নিচে থাকা ওই পাঁচ কোম্পানির শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, লেনদেনও হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। জেনেশুনে এসব ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার হঠাৎ কারা কিনছেন, তা নিয়ে বাজারে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারদর আজ ৭ পয়সা বা প্রায় ১১ শতাংশ বেড়ে ৭২ পয়সায় উঠেছে। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৫ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৫ পয়সা, এফএএস ফাইন্যান্সের দর ৭ পয়সা বা প্রায় ১১ শতাংশ বেড়ে ৭২ পয়সা, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৬ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়ে ৬৭ পয়সা এবং প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৫ পয়সা বা ১১ শতাংশ বেড়ে ৫২ পয়সায় উঠেছে।
এদিকে আজ পিপলস লিজিংয়ের ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৭ লাখ ৫ হাজার ৫৮৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। এ ছাড়া ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এফএএস ফাইন্যান্সের ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৬টি শেয়ার, ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ১০ লাখ ৬৬০টি শেয়ার এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় থাকা শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক দাম ও লেনদেনকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এর পেছনে কোনো কারসাজি বা ইন্ধন থাকলে তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য আল-আমিন বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য, ক্যাশ ফ্লো, ইপিএস– সবই নেতিবাচক। এরপরও যদি বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ার কিনে থাকে, তার মানে হলো তারা জেনেশুনে এসবের দায় নিতে রাজি হচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, যদি কোনো গ্রুপ মার্কেট থেকে ‘এক্সিট’ নেওয়ার জন্য গুজব তৈরি করে থাকে, তবে তা এড়িয়ে চলা বিনিয়োগকারীদের দায়িত্ব। আর এর পেছনে কারসাজি থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ব্যবস্থা নেওয়া।
ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘দর বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হয়েছে কি না, সেটি দেখলেই কিছুটা ধারণা করা যাবে এগুলো কারা করছে। আকর্ষণ করার চেষ্টা কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। সবার সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত; কারণ, যার পুঁজি তাকেই রক্ষা করতে হবে।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকটি সিকিউরিটিজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বন্ধের তালিকায় থাকা ৯টি এনবিএফআইয়ের সবগুলো বন্ধ হচ্ছে না। এখান থেকে কয়েকটি বিশেষ শর্তে ছাড় পেতে পারে। তবে কোনটি ছাড় পাবে আর কোনটি অবসায়নে যাবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে আজ বন্ধের তালিকায় থাকা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর ও লেনদেনও বাড়তে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেডের শেয়ারদর ১০ পয়সা বা ৮ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারদর ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ১০ পয়সা এবং জিএইপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) পিএলসির শেয়ারদর ১০ পয়সা বা ৭ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, এসব শেয়ারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি বা কারসাজিকারকদের হাত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএমএইচ/বিআরইউ