শেয়ারবাজারে এক মিনিটে সূচকের রেকর্ড ২২৩ পয়েন্ট পতন

চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে বড় পতনের মধ্যে লেনদেন চলমান রয়েছে। এদিন লেনদেন শুরুতে মাত্র ১ মিনিটের মধ্যে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। এক মিনিটে সূচকের এত বড় পতন শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এটিই প্রথম বলে মনে করছেন অনেকে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজার খুবই সেনসিটিভ জায়গা। বিশ্বের কোন দেশে যখনই যুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রভাব পুঁজিবাজারে খুবই দ্রুত সময়ে পরে। অতীতেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিশ্বজুড়ে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। এবারও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাব আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতেই অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমার তালিকায় অংশ নেয়। এতে প্রথম মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক ২২৩ পয়েন্টে কমে যায়। পরে অবশ্য কয়েকটি শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় আসে। এতে সূচকের রেকর্ড পতনের ব্যবধান পরে কিছুটা কমতে থাকে।
প্রথম ঘণ্টায়, অর্থাৎ বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া শেয়ার ও ইউনিটগুলোর মধ্যে মাত্র ১৯টির দাম বাড়ার তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫৫টির। আর ১৩টির দাম এসময়ে অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেলা ১১টা পর্যন্ত দাম কমার তালিকায় এই বিশাল সংখ্যক সিকিউরিটিজ চলে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২১ পয়েন্টে নেমেছে।
এদিকে সবকটি মূল্যসূচকে বড় পতন হলেও ক্রেতার উপস্থিতি ভালো লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। গত বৃহস্পতিবার বাজারটিতে ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের অপসারণ ও নতুন গভর্নরের ইতিবাচক বার্তায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছিল। আগের কয়েক কার্যদিবসেও শেয়ারবাজার উত্থানের ধারাবাহিকতায় ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শেয়াবাজারে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে কেন্দ্র করে এই বড় পতন দেখা গেল।
এমএমএইচ/এসএম