গ্রামীণফোনের ব্যবসা কমার শঙ্কা জানালো কোম্পানি কর্তৃপক্ষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন পিএলসির (জিপি) ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানির রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।
গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশ জ্বালানি ও এলএনজি আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশেষ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহ ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় চাপের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
কোম্পানিটি আরও জানায়, এখন পর্যন্ত তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থিতিশীল থাকলেও চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দেশের দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও আচরণে পরিবর্তন আসছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হচ্ছে এবং মানুষের চলাচলেও প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া মৌসুমি তীব্র ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক পূর্বাভাস দিতে বাধ্য হয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের রাজস্ব আয় প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। অপরদিকে সুদ, কর, অপচয় ও পরিশোধের আগে মুনাফা ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো মুহূর্তে পরিবর্তন হতে পারে। তাই কোম্পানিটি নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর জন্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে এবং নেটওয়ার্কের মান বজায় রাখতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আলোচ্য তিন মাসে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল ৬৩৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
এমএমএইচ/বিআরইউ