শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরার বড় মঞ্চ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশের সবচেয়ে বড় জাতীয় আয়োজন হলো জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ। এর মাধ্যমে তারা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সুপ্ত প্রতিভা তুলে ধরতে পারছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর আব্দুল হান্নান বলেন, দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই সরকার প্রতিবছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ পালন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালেও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষা পরিবারের সবচেয়ে বড় উৎসব। যেখানে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
মহাপরিচালক বলেন, শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ১৯টি সৃজনশীল ও নান্দনিক ইভেন্টে চারটি গ্রুপে অংশ নিয়ে তাদের প্রতিভা ও পারদর্শিতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমের ১০টি একক ও দলগত ইভেন্টে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হয়ে পুরষ্কৃত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। প্রতিযোগিতাগুলো উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, জেলা থেকে অঞ্চল এবং অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। সেখানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাতীয়ভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।
প্রফেসর হান্নান বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি জাতীয়ভাবে পুরষ্কৃতরা তাদের সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও মেধা দিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। জাতীয়ভাবে পুরষ্কৃতদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে কৃতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, সংগঠক ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন গুণী মানুষ তৈরি হবে, যারা শিল্প–সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
আরএইচটি/এসএম