শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪–৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা, বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-৪ অর্জন সম্ভব নয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) গণসাক্ষরতা অভিযানের আয়োজনে ঢাকায় ‘বাংলাদেশে এসডিজি-৪ অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ : আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সভায় এমন দাবি জানানো হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী।
এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তির হার বেড়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখনো মানসম্মত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, জলবায়ু ঝুঁকি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষক সংকট শিক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, চা-বাগান, চর, হাওর, পাহাড়ি অঞ্চল, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে এসডিজি-৪ অর্জনে বৈষম্য প্রকট রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ, সর্বজনীন স্কুল মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু, শিক্ষকদের মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্তরে সার্বজনীন সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিতে হবে।
সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কনসালটেশন কমিটি এবং মাধ্যমিক শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এডুকেশন লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের (ইএলসিজি) কো-চেয়ার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
সভায় শিক্ষা গবেষক, শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপ, ইয়ুথ গ্রুপ, গার্লস ফোরাম, পরিবেশ ও ডিবেট ক্লাবের সদস্য এবং প্রবাসীসহ দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
আরএইচটি/এমএন