এমপিও অনুমোদনে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই ও মূল্যায়ন পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনলাইন তথ্যভাণ্ডার এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে যাচাইয়ের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫ অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলোর মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্তির জন্য মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন জমা পড়েছে।
এসব আবেদনের মধ্যে মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি, স্নাতক (পাস) পর্যায়ের ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সাম্যসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এদের এমপিওভুক্তির সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা প্রমাণকগুলো ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্য ও অনলাইন ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরেজমিনেও তথ্য যাচাই করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫’ অনুযায়ী প্রস্তুত, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনলাইন তথ্য ও মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য বা সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পাদনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এমপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এমপিও অনুমোদনের বিষয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিনিধি এ ধরনের যোগাযোগের চেষ্টা করলে অথবা এমপিওসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (+৮৮০১৩৩৯-৭৭৪৫২৮)–এ ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরএইচটি/এমএন