বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাও জাতীয় দায়িত্ব। তবে এসংকট কাটাতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
প্রফেসর হান্নান বলেন, এই সংকট কোনো একক দপ্তরের সিদ্ধান্তে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই একপাক্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বলবো যেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাঠদান পদ্ধতি বা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এমন কোনো পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না, যা শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখেও জ্বালানি ও সময় সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়ে বাস্তবধর্মী প্রস্তাবনা দিতে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান যানজট ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সন্তানদের যাতায়াত নিশ্চিত করা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা সরকার অনুধাবন করে। তাই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কোন পদ্ধতি বেশি বাস্তবসম্মত ও সুবিধাজনক, স্কুলের সময়সূচি, যাতায়াতের ধরন বা পাঠদান পদ্ধতিতে কী ধরনের সমন্বয় আনা যায়, সে বিষয়ে অভিভাবকরা মতামত জানাতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বা অন্য কোনো উদ্ভাবনী উপায়ে কীভাবে তারা এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে চায়, সে বিষয়ে মতামত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতির চাপে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া থেমে যাক, এটি সরকার চায় না। বরং এমন একটি টেকসই কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যা ভবিষ্যতের যেকোনো বৈশ্বিক দুর্যোগেও শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে সক্ষম হবে।
সেমিনারে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে জ্বালানি সংকটকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য একটি যুগোপযোগী ও অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
আরএইচটি/এমএসএ
